আমেরিকার সিনেটর এবং সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সভাপতি রবার্ট মেনেনডেজ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার এফবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সভাপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। র‌্যাব এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনে যারা চিঠি দিয়েছিল ও প্রভাব খাটিয়েছিল সেই ৮ মার্কিন সিনেটরের নেতৃত্বে ছিলেন রবার্ট মেনেনডেজ।

২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসনকে বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আমেরিকার ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বরাবর লেখা ওই চিঠিতে যে ৮ জন সিনেটর র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য চিঠি দেন তার নেতৃত্বেও ছিলেন রবার্ট মেনেনডেজ।

সিএনএনসহ আমেরিকার বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে তার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তদন্ত  খবর প্রকাশিত হয়। শুক্রবার সিএনএন এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর মেনেনডেজ ও তার স্ত্রী নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও হোম মর্টগেজ হিসেব ৫ লখ ডলার ঘুষ নিয়েছেন। গত ১০ বছরের মধ্যে এই সিনেটরের বিরুদ্ধে এটি ঘুষ গ্রহণের দ্বিতীয় অভিযোগ। ২০১৭ সালেও তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিষ্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি ড্যামিয়েন উইলিয়ামস জানান, ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২২ মধ্যে, নিউ জার্সির সিনিয়র সিনেটর এবং মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান মেনেনডেজ এবং তাঁর স্ত্রী নাদিন মেনেনডেজ বিভিন্ন সময় তিন মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ায়েল হানা, জোসে উরিবে এবং ফ্রেড ডাইবেসের কাছ থেকে ঘুষ নেন। তারা এই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা ও মিশরের সরকারকে লাভবান করতে নিজেদের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।

সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজসহ ৮ সিনেটর ২০২০ সালে আমেরিকার তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারকে বাংলাদেশের কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে চিঠি দিয়েছিল। রবার্ট মেনেনডেজ সে সময় সরকার বিরোধীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলো বলে ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের অনেকে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তা আমেরিকা বা বাংলাদেশ কোন পক্ষ থেকেই তদন্ত হয়নি।